
খুলনার পাইকগাছায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় আইজুর রহমান জোয়াদ্দার (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিজার হওয়া অসুস্থ মেয়েকে দেখে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তেল শেষ হয়ে গেলে সেটি ঠেলে হাঁটার সময় দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার আলমতলা-কয়রা সড়কের শিববাড়ী ব্রিজের অপর প্রান্তে ফ্যান্টাসি গার্ডেন অ্যান্ড পার্কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আইজুর রহমান জোয়াদ্দার উপজেলার আলমতলা গ্রামের মৃত সামছুর রহমান জোয়াদ্দারের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই মো. সাঈদ আলী (৬৮) জানান, আইজুর রহমান পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সিজার হওয়া মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন। মেয়েকে দেখে সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে তিনি সেটি ঠেলে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন।
তিনি আরও জানান, ফ্যান্টাসি গার্ডেনের সামনে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী হলুদ রঙের সুজুকি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলটি কিছুক্ষণ ঘটনাস্থলে ছিল। তবে লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই চালক মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা আইজুর রহমানকে উদ্ধার করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রান্ত সরদার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় জড়িত হলুদ রঙের সুজুকি মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্তে স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলমতলা-কয়রা সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলাচল করছে, যা পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তারা ঘাতক চালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, সড়কে ট্রাফিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে দেখে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একজন বাবার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।