
রাজনীতিতে দেওয়া কথা আর বাস্তবায়নের ব্যবধান যেখানে প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়, ঠিক সেখানেই এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত না হয়েও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি একে একে পূরণ করে চলেছেন জেলা বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব।
খুলনা জেলা পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এডিপি ও রাজস্ব তহবিলের আওতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২১৮টি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দ্বিতীয় ধাপে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আর এই বৃহৎ বরাদ্দের আওতায় দীর্ঘদিন পর অবহেলার অভিশাপ মুক্ত হতে যাচ্ছে পাইকগাছা প্রেসক্লাব।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও পাইকগাছা প্রেসক্লাব
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মনিরুল হাসান বাপ্পী। নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও এই অবহেলিত জনপদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি।
নির্বাচনকালীন সময়ে পাইকগাছা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি ক্লাবের জরাজীর্ণ ও অবকাঠামোগত দুর্দশা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমকর্মীদের এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থা দেখে তিনি সেসময় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন—নির্বাচনী ফলাফল যা-ই হোক, তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন রূপ দেবেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সেই কথা রেখে পাইকগাছা প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান,
দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে অবহেলিত পাইকগাছা প্রেসক্লাবের ছাদে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়ত, যা সাংবাদিকদের পেশাগত কাজ পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে ক্লাবের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই অর্থ বরাদ্দের সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।
ব্যাপক প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
শুধু পাইকগাছা প্রেসক্লাবই নয়, খুলনা জেলার ২১৮টি সামাজিক, শিক্ষামূলক ও অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
পাইকগাছা প্রেসক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক এম মোসলেম উদ্দিন আহমেদসহ ক্লাবের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শেষ হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা একটি চমৎকার ও অনুকূল পরিবেশে তাদের বস্তুনিষ্ঠ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর এই উদ্যোগ খুলনা অঞ্চলের প্রান্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো গঠনে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।