
খুলনার পাইকগাছায় সুইচ গেটের পানির ভেতর থেকে আনুমানিক ৭০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধের লাশ উদ্ধারের পরও মিলল না তাঁর পরিচয়। প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয়দের পাশাপাশি সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচেষ্টার পরও কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর দেলুটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দারুণ মল্লিক গ্রামসংলগ্ন ২২ নম্বর পোল্ডারের সুইচ গেটের পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কেউ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র বা ঠিকানা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকেও ওই বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্তে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হয়। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আওয়াল কবিরের দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কৃপা সিন্ধুসহ পুলিশের একটি দল তাঁর পরিচয় ও আত্মীয়-স্বজনের সন্ধানে কাজ করে। পাশাপাশি প্রশাসনের তৎপরতা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার এবং সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতায় পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটির ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত-পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, বোয়ালখালী কবরস্থানে তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
তবে বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে এখনো রহস্য রয়ে গেছে। তিনি কীভাবে ওই সুইচ গেটের পানিতে এলেন, পানিতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আওয়াল কবিরের নির্দেশনায় এসআই কৃপা সিন্ধুসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিচয়হীন এই বৃদ্ধের স্বজন বা পরিচিত কেউ তাঁর ছবি ও ঘটনার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে শনাক্ত করতে পারলে পাইকগাছা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।