
খুলনার পাইকগাছায় আরএফএল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর নিপুন সানা নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে পাইকগাছা পৌরসদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পর তদন্তে নতুন মোড় এসেছে।
গ্রেপ্তার নিপুন সানা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের সোলাদানা গ্রামের পঞ্চানন সানার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ দেউড়ী আরএফএল কোম্পানির ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে পাইকগাছায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার বেত্রা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম ধীরালাল দেউড়ী।
গত ২০ জুলাই গভীর রাতে পাইকগাছা পৌরসভার হাসপাতাল মোড় এলাকায় রামপ্রসাদ মণ্ডলের ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনার পর তাঁর এক সহকর্মীও নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে শুরু থেকেই ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মামা বিপুল সরকার বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে নিপুন সানাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর আলম বলেন, “হত্যা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় নিপুন সানা নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আওয়াল কবির বলেন, “বিশ্বজিৎ দেউড়ী হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর রিমান্ড চাওয়া হবে।”
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার নিপুন সানার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের কারণ, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং নিখোঁজ সহকর্মীর বিষয়ে তথ্য উদ্ঘাটনেও কাজ করছে পুলিশ।
তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ কিংবা গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বিশ্বজিৎ দেউড়ীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর কেটে গেছে ২৮ দিন। দীর্ঘ এই সময়ে হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এখন সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং বিশ্বজিৎ হত্যার প্রকৃত রহস্য কতটা উন্মোচিত হয়—সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
নোট: গ্রেপ্তার নিপুন সানা বর্তমানে মামলায় সন্দেহভাজন; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।