
গরম কাপড়ের দোকানে বাড়ছে ভিড়, দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ
সারাদেশের মতো তীব্র শীতে কাঁপছে খুলনা জেলার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছা। সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা ও কয়রার মানুষজন প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সকাল বেলায় কাজে বের হতে না পারায় শ্রমজীবী, দিনমজুর, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
উপজেলার অধিকাংশ মানুষ মাছের ঘের ও কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম চললেও তীব্র শীত ও সূর্যের অনুপস্থিতির কারণে কৃষকেরা বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে পাইকগাছায় সূর্যের দেখা মেলেনি।
এদিকে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা চলমান থাকায় প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। অতিরিক্ত শীতের কারণে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা জুড়ে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে রোগীর চাপ বেড়েছে।
পাইকগাছা শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে পুরোনো ও নতুন গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। সামর্থ্যবানরা লেপ-তোশক ও শীতবস্ত্র কিনলেও গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে গরম কাপড় সংগ্রহ করতে পারছে না। অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষকে খড়, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তীব্র শীত ও মৌসুমের শুরুতেই হালকা শৈত্যপ্রবাহের কারণে পাইকগাছার জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। দ্রুত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য প্রশাসন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।