
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। হাতে মেহেদি, পরনে লাল বিয়ের শাড়ি—নববধূর সেই সাজই হয়ে উঠলো জীবনের শেষ সাজ। খুলনার কয়রা উপজেলার মেয়ে মিতু আক্তার ও মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ের আনন্দঘন আয়োজন শেষ হতে না হতেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সারাদিনের বিয়ের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর নতুন সংসারের স্বপ্নে মুখর ছিল কনের বাড়ি। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতটিও কাটান কনের বাড়িতেই।
কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, আনন্দের সেই রাতের পরই অপেক্ষা করছে এমন নির্মম পরিণতি।
বৃহস্পতিবার সকালে নববধূর সাজেই, স্বপ্নভরা চোখে নতুন জীবনের সূচনায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মিতু। একটি মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রীরা মোংলার দিকে যাচ্ছিলেন। একই গাড়িতে ছিলেন কনের বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।
পথিমধ্যে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
মাইক্রোবাসটিতে বর পরিবারের ১১ জন, কনে পরিবারের ৩ জন এবং চালকসহ মোট ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৩ জন ও চালকসহ মোট ১৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নববধূ মিতু আক্তার, তার স্বামী সাব্বির, বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারাসহ পরিবারের আরও সদস্যরা।
দুর্ঘটনার পরপরই আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেলের দিকে একে একে লাশগুলো হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়ন। সকালেও যে মেয়েকে বিয়ের সাজে বিদায় দেওয়া হয়েছিল, বিকেলের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর শুনে শোকাহত হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও বিয়ের সানাই বাজছিল, সেই বাড়িতেই এখন কান্নার রোল। মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয়রা জানান, এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা এলাকায় দীর্ঘদিন মনে রাখবে মানুষ। নবদম্পতির অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবার ও পুরো এলাকায়।