
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সকল প্রকার রাজনৈতিক ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশনা প্রদান করে। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় অনেক স্থানে এসব ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ না করায় উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
জানা গেছে, এর আগে দুই উপজেলা প্রশাসন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অবহিত করেছিল। কিন্তু শনিবার রাত ৯টায় ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও পাইকগাছা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং পাড়া-মহল্লায় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ছবি সংবলিত অসংখ্য ব্যানার ও পোস্টার ঝুলতে দেখা যায়।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে খুলনা-৬ (কয়রা–পাইকগাছা) সংসদীয় এলাকায় মাঠে নেমেছেন দুই উপজেলার ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গতকাল রবিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাইকগাছা উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী এবং কয়রা উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপেন সাধক রনিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার দুপুর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বীর নেতৃত্বে পাইকগাছা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক, কোর্ট মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় পোস্টার, ব্যানার, প্যানা ও ফেস্টুন অপসারণ কার্যক্রম চালানো হয়।
এদিকে কয়রা–পাইকগাছা নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নিজ উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর নামীয় পোস্টার ও প্যানা অপসারণ করছেন। অপরদিকে পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাপ্পীর নামীয় পোস্টার ও প্যানা অপসারণের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী দৈনিক জন্মভূমির এই প্রতিনিধিকে বলেন,
“নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই অভিযান আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।”