
এই সমাজে পরিচয়হীন জন্মই যেন অভিশাপ। রাস্তায় পাগলির কোল থেকে জন্ম নেওয়া এক অবুঝ শিশু—তার না আছে ঠাঁই, না আছে স্বজন। কিন্তু আশার আলো জ্বালালেন পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহেরা নাজনীন। নবজাতিকাকে স্নেহভরে কোলে তুলে নিয়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।
পাগলী মা, পরিচয়হীন। শিশুটির কোনো “বাবা” নেই—অন্তত সমাজের চোখে নেই। কিন্তু মানবিক দায়িত্বে ইউএনও মাহেরা নাজনীন এগিয়ে এসে নবজাতিকাকে কোলে নিয়ে তাকালেন তার অবুঝ মুখের দিকে; নয়নে জ্বলজ্বল করছিল স্নেহ, ঠোঁটে ফুটে ছিল কোমল এক হাসি।
তিনি জানেন, এই শিশুটি কোনো সাধারণ ঘরের নয়। সে এসেছে রাস্তার পাশ থেকে, পাগলী মায়ের গর্ভ থেকে। কিন্তু কোলে নেওয়ার সময় তার চোখেমুখে একটিবারের জন্যও ঘৃণা বা অস্বস্তির ছায়া ছিল না। বরং সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন—একজন মানুষের হৃদয়ের বিশুদ্ধতা কতটা গভীর হতে পারে।
“এই শিশুটি পাগলির বলে আমি কোলে নেব না—সেই সংকীর্ণ মানসিকতা আমার নেই,”—এমন এক অদৃশ্য বার্তা যেন ছড়িয়ে দিলেন ইউএনও। তিনি ভাবেননি, সাধারণ মানুষ কী বলবে। তিনি জানেন, একদিন আমরা কেউই থাকব না, কিন্তু থেকে যাবে আমাদের কর্ম, আমাদের স্মৃতি, আমাদের ভালোবাসার নিদর্শন।
এই সমাজে কে ধনী, কে গরিব, কে পাগল, কে সভ্য—সেটিই মুখ্য নয়। মুখ্য হলো মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ববোধ। ইউএনও মাহেরা নাজনীন সেই দায়িত্ববোধকে অতিক্রম করে হৃদয় দিয়ে জিতে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা।
আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ যেন তার জান-মাল হেফাজত করেন, এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে এমন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দান করেন।