
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ব ও ইসলামি আদর্শে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামি শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি বলেন,“ইসলামী শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি। নৈতিকতা ও দ্বীনি শিক্ষার অভাবে সমাজে অপরাধ, মাদক, বাল্যবিবাহ ও অনৈতিকতা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা যদি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেকে গড়ে তোলে, তাহলে তারা নিজের পরিবার ও সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন,“ইসলাম কখনোই জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ কিংবা নারীর প্রতি অবিচার সমর্থন করে না। বরং ইসলাম মেয়েদের শিক্ষা, সম্মান ও নিরাপত্তার সর্বোচ্চ অধিকার দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
ওসি জাহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,“আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজনির্মাতা। মাদক, অনলাইন জুয়া ও খারাপ সঙ্গ থেকে নিজেকে দূরে রেখে ইসলামি মূল্যবোধে জীবন পরিচালনা করতে হবে। সচেতন শিক্ষার্থীই পারে বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ করতে।”
সভায় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন,“আমরা ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ মানুষ হতে চাই। আমাদের কেউ বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে আমরা তা মেনে নেব না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সহায়তা নেব।”
মাদ্রাসার শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে বলেন, ইসলামী শিক্ষা ও সচেতন শিক্ষার্থীই পারে সমাজকে অপরাধমুক্ত ও মানবিক করে তুলতে।
সভায় মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।