
খুলনার পাইকগাছায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক গোলাম পরোয়ার বলেন,
> “মানুষের আইন কোনোদিন শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল সৃষ্টিকর্তার আইনই সব ধর্মের মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে। মুসলিমরা শুধু নামাজ, রোজা ও মসজিদে সীমাবদ্ধ থাকবে আর ইবলিশরা রাজনীতি করবে — তা হবে না। আমাদেরও সেখানে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসলামী দলগুলো নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গঠনের আলোচনা চলছে। যদি ইসলামী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে, তাহলে সর্বপ্রথম শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরিত্র, নৈতিকতা, কারিগরি দক্ষতা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে পুনর্গঠন করা হবে — যাতে সেনা, প্রশাসন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষক, শ্রমিকসহ প্রত্যেকে নৈতিকতার ভিত্তিতে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গোলাম পরোয়ার বলেন,> “আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। কয়রা-পাইকগাছা আসনে আমাদের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করুন, ইনশাআল্লাহ আমরা জনগণের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে বলেন,
> “ক্ষমতায় গেলে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ, প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, সড়ক সংস্কার ও খুলনা থেকে কয়রা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি আরও জানান, আগামী সরকারে সুযোগ পেলে আইটি পার্ক স্থাপন ও কয়রা-পাইকগাছা নিয়ে “সুন্দরবন জেলা” গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার, জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও আবুজার আল গিফারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আব্দুল খালেক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন।
এ সময় জামায়াতের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ হাজারো ছাত্র-যুবক সমাবেশে অংশ নেন।