খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম মন্দিরের দোতলায় পুরোহিত পরিবারের বসবাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভক্ত ও এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই পবিত্র স্থান। এসব স্থানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, তাই এর পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগকারীরা জানান, মন্দিরের নিচতলায় মূল পূজা-অর্চনার স্থান রয়েছে। কিন্তু সেই মন্দিরের ভেতর দিয়েই সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতে হয়, যেখানে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ উদ্ধব শ্রীচৈতন্য দাস (দীক্ষিত নাম) ওরফে উত্তম কুমার পাল তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। সেখানে বেডরুম, টয়লেটসহ পারিবারিক বসবাসের সকল ব্যবস্থা রয়েছে।
স্থানীয় ভক্তদের ভাষ্য, “আমরা নিচতলায় পূজা-অর্চনা করবো আর উপরে পরিবার নিয়ে বসবাস হবে—এটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
এ বিষয়ে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা উত্তম কুমার পাল সাংবাদিকদের জানান, তিনি মৃত তারকচন্দ্র পালের চতুর্থ সন্তান। তাদের পরিবারে সাত ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের মাধ্যমে তিনি তার মায়ের নামে থাকা জমির অংশ পান।
তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল নিজের জায়গার ওপর একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করা। ১৯৯৩ সালে আমি আমার নামে থাকা তিন শতক জমি এবং আমার কাকিমা গোলাপী পাল, স্বামী ভোলানাথ পালের নামে থাকা অর্ধশতক জমি মন্দিরের জন্য দান করি। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন শতক জমির ওপর মন্দিরটি অবস্থিত।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৯৩ সাল থেকে তিল তিল করে মন্দিরটি গড়ে তুলেছি। এলাকার মানুষ যেন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি। বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই শ্রী শ্রী ধাম মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক ভক্তও মন্দিরে স্বেচ্ছায় দান করেছেন। আমি আমার সব সম্পদ বিক্রি করে আজ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি। এই মন্দির ও ভগবানই এখন আমার সম্বল।”
এ বিষয়ে পাইকগাছা পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাবু রাম মন্ডল বলেন, “মসজিদ, মন্দির, গির্জা—সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই পবিত্র স্থান। সেখানে নিচে ধর্মীয় কার্যক্রম চলবে আর উপরে পরিবার নিয়ে বসবাস করা ঠিক নয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এখানে পূজা দিতে আসেন। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে দেখার প্রয়োজন
মন্দিরের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিও একই ধরনের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়া উচিত।
তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ধর্মীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
সম্পাদক মন্ডলী
-------------------
সম্পাদক ও প্রকাশক=মোঃ খোরশেদ আলম
নির্বাহী সম্পাদক = মাহফুজ আলম (রনি)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক = মেরিনা বেগম
বার্তা সম্পাদক = খুরশিদা আলম( খুশবু)
অফিসের ঠিকানা
---------------------
বাতিখালী ,পাইকগাছা পৌরসভা
৭ নং ওয়ার্ড, পোনা মার্কেট
বাড়ি নং = ১৯২ , পাইকগাছা, খুলনা
যোগাযোগ= ০১৯৭০১১৫১২৫ (সম্পাদক ও প্রকাশক)